জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমরা স্পষ্টভাবে বলেছিলাম- আইনের শাসন অনুযায়ী ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিচার করা হবে। যারা অপরাধী, ফ্যাসিবাদ ও গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে যারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নয়, তাদের সঙ্গে কোনো অবিচার করা হবে না; কিন্তু আমরা দেখেছি, একটি দল সারা দেশে নির্বিচারে মামলা দিয়ে মামলা বাণিজ্য করেছে। এখন ভোটের সময় ঘনিয়ে এলে তারা বলছে, ধানের শীষে ভোট দিলে মামলা প্রত্যাহার করা হবে। এটা একটি স্পষ্ট প্রতারণা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জাতীয় নাগরিক পার্টি মনোনীত মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের প্রার্থী প্রীতম দাশের নির্বাচনি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি দল এক সময় ৩১ দফা সংস্কারের কথা বলেছিল, রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছিল যখন ফ্যাসিস্ট আমল ছিল। যখন সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, তখন তারা ৩১ দফার সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। এখন আবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এসব মিথ্যা আশ্বাসে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না।
তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠন করতে পারলে সারা দেশের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে কাজ করব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইটি খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় আইটি সেন্টার, স্কিল ও ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে।
নাহিদ বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে ভোট ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেছে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। শেরপুরে আমাদের শরিক দল জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালট সিল মারার পরিকল্পনা করছে, কারণ তারা বুঝতে পারছে জনগণ ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে। এই গণজোয়ার ঠেকাতে তারা আতঙ্ক ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন জায়গায় হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এনসিপি চায় না কোনো আসন চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী বা নতুন করে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া শক্তির হাতে চলে যাক। তাই বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের একাধিক যোগ্য প্রার্থীর মধ্য থেকে প্রীতম দাশকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে আসছেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, চা-বাগানের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে প্রীতম দাশ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ১৫৩ দিন কারাবরণ করেছেন। তাই তাকে বিজয়ী করে সংসদে পাঠালে তিনি আরও শক্তভাবে মানুষের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সুন্নি, আলেম, হিন্দু, মুসলমান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও আদিবাসীসহ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে জয়যুক্ত করবেন।
ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, একটি রাজনৈতিক দল ততই সহিংস ও হিংস্র আচরণে জড়িয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, হামলা, মামলা ও সন্ত্রাসকে যারা আবারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে, জনগণ এবার তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জানাবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- শাপলা কলির প্রার্থী প্রীতম দাশ, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার জুনেদ আহমেদ, মনিরা শারমিন, এহতেশামুল হক, অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, ফয়সল মাহমুদ শান্ত, লুৎফর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে শহরে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে একটি পথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

