বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা আর ব্লাকমেইল-সব মিলিয়ে ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে এক ডাক্তারের বিরুদ্ধে। গোপন ভিডিও ধারণ করে রোগীর স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক, তারপর রহস্যজনক অসুস্থতা আর শেষ পর্যন্ত ঐ নারীর মৃত্যু। গোপালগঞ্জের বেদগ্রামে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্জল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে এটা কি পরিকল্পিত হত্যা? আসলে ঠিক কী ঘটেছিল মিতু মন্ডলের সাথে ?
জানা যায়, গোপালগঞ্জের সদর থানাধীন বেদগ্রাম নিবাসী অমিত মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় ডাক্তার তাপস রায়ের চিকিৎসাধীন ছিলেন। ডাক্তার তাপস রায় চিকিৎসার সুবাদে রোগীর বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। রোগীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তার স্ত্রী মিতুর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন ডাক্তার তাপস। শুধু তাই নয় গোপন ক্যামেরায় মিতুর নগ্ন ভিডিও ধারণ করে মিতুকে ব্ল্যাকমেইল করে দিনের পর দিন অবৈধ শারীরিক মেলামেশ চালিয়ে যান।
পরবর্তীতে বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে মিতু ডাক্তার তাপসের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং ধারণকৃত ভিডিওর মেমোরি কার্ড ফেরত চান। অভিযুক্ত তাপস মেমোরি কার্ড ফেরত নিতে মিতুকে তার সকল অপকর্মের সহযোগী মিতু মন্ডলের খালা নমিতা সেনের বাড়িতে ডাকে। মিতু সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে তাপস ও নমিতা মিতুকে কোমল পানীয় খেতে দেয়। কিন্তু পানীয় পান করার পরপরই মিতুর রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মিতুর স্বজনরা মুমূর্ষ অবস্থায় মিতুকে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে মিতুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মিতুকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে রেফার করে।
পরবর্তীতে খুলনা সোনাডাঙ্গা হেলথ কেয়ার নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৩ই জুলাই মিতু মন্ডলের মৃত্যু হয়। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মিতুর মৃত্যুর কারণ হিসেবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত ডাক্তার তাপসের পরামর্শে তড়িঘড়ি করে বাড়িতে না এনে রূপসা শ্মশানে সৎকার সম্পন্ন করে।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে মিতু পুরো ঘটনাটি তার মাকে জানায় যার একটি রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে আসে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত তাপস রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পুরো ঘটনা এড়িয়ে গিয়ে সব মিথ্যা বলে দাবী করলেও এক পর্যায়ে সবকিছু নমিতা সেন জানেন বলে জানায়। তবে অভিযুক্ত নমিতা সেন অভিযোগের কথা শুনেই কোন প্রশ্নের সঠিক উত্তর না দিয়ে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেন।
অভিযুক্ত নমিতা জনৈক সাংবাদিক জিলানী সবকিছু জানেন বলে জানালেও সাংবাদিক জিলানীর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে নিহতের স্বামী বাদী হয়ে তাপস রায় ও সহযোগী নমিতা সেনকে আসামী করে খুনের মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে টুঙ্গিপাড়া থানায় মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
এলাকায় লম্পট এবং নারীলিপ্সু হিসাবে পরিচিত ডাক্তার তাপসের বিরুদ্ধে এর আগেও কমপক্ষে আরো ৩ জন নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে। সবক্ষেত্রেই টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতে পারলেও এবার মিতু মন্ডলের হত্যকান্ড কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা এলাকাবাসী। এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং ডাক্তার পরিচয়ে একজন প্রতারক তাপস রায় ও নমিতা সেনের ফাঁসীর দাবী জানিয়েছেন তারা।

