প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা অপরিহার্য। তারা যেন জানে এই দেশ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, আমরা কেউই চিরস্থায়ী নই। সামনে আরও সংগ্রাম আসবে। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে সেই ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া জরুরি।
বৈঠকে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করা এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়াই ছিল সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। অতীতে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানকে পুঁজি করে অনেকে স্বার্থ হাসিল করেছে, ভবিষ্যতে যেন তা না ঘটে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, আগের সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যবহার করে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধারা অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ ও গণভোট আয়োজনের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংবিধান সংস্কারের এই সুযোগ ঐতিহাসিক। সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবর্তন না হলে দেশ একই জায়গায় ঘুরপাক খাবে।
বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ, স্মৃতিস্মারক রক্ষা এবং সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

