নতুন বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে তথাকথিত ‘ডনরো ডকট্রিন’। ১৮২৩ সালের মনরো ডকট্রিনের আধুনিক সংস্করণ হিসেবে পরিচিত এই নীতির মূল লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সম্পদ, বিশেষ করে তেলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা-এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের ঘটনার পর ‘ডনরো ডকট্রিন’ আলোচনায় আসে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটি পশ্চিম গোলার্ধভিত্তিক নীতি, বাস্তবে এর প্রভাব বিস্তৃত হয়েছে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাজুড়ে।
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ এলাকায় ২০১৪ সাল থেকে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। আইএসবিরোধী অভিযানের আড়ালে সেখানে তেল উত্তোলন ও বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে নতুন করে বিমান হামলাও চালানো হয়েছে।
আফ্রিকার বড় তেল উৎপাদক দেশ নাইজেরিয়ায় বড়দিনে মার্কিন বিমান হামলার ঘটনায়ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার রক্ষার যুক্তি দেখালেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে তেলসম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য।
ইরানেও অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উসকানি, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ ও সামরিক হুমকির মাধ্যমে চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলা ও খনিজসমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড নিয়েও আগ্রাসী বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিশ্লেষকদের মতে, ডনরো ডকট্রিনের মূল উদ্দেশ্য দুটি-বিশ্ব তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং ডলারের আধিপত্য বজায় রেখে চীনের অর্থনৈতিক উত্থান ঠেকানো। তাদের ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো সাম্রাজ্যবাদী তেল-রাজনীতিরই আধুনিক রূপ।

