ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানিয়েছেন, অভিযানের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় এখন ওয়াশিংটন সংঘাত নয়, বরং কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগোতে চায়।
মঙ্গলবার (৫ মে) হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে রুবিও বলেন,
“অপারেশন এপিক ফিউরি সমাপ্ত হয়েছে। আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছি। আর কোনো নতুন উত্তেজনা চাই না। শান্তির পথই আমাদের অগ্রাধিকার।”
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন এখন একটি কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
রয়টার্সের বুধবার (৬ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের আলোচনা চলছে। এর মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে এবং ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার জন্য পরিচালিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের সামরিক অভিযানও বন্ধ করা হয়েছে।
রুবিও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন নতুন কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না এবং প্রেসিডেন্টও একটি সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি এ সময় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন। গত মাসে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা ফলপ্রসূ না হলেও উভয় পক্ষই নতুন প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয় এবং চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা পুরোপুরি কমে গেছে—এমনটা বলা কঠিন।

