কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সরকার কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কাজ করছে এবং দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের মেদির হাওর পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, “কৃষকরা আমাদের মূল ভিত্তি। তাদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।” তিনি জানান, বর্তমানে জেলা পর্যায়ে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায়েও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে।
এ সময় তিনি কিশোরগঞ্জের অল ওয়েদার রোড প্রসঙ্গে বলেন, সড়কটি পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে কি না তা যাচাইয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হাওর এলাকায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। মেদির হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার তলিয়ে থাকা ধানক্ষেত ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে এবং কৃষকরা কিছু ফসল শুকানোর সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এখনো অনেক জমি পানির নিচে থাকায় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে নাসিরনগর হাওরে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩০৫ হেক্টর জমি ঢলের পানিতে তলিয়ে যায়। এতে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি টাকা ধরা হলেও কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতি আরও বেশি।

