আট বছর ধরে পশু পালন করছেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের খামারি সোহেল রানা। ফ্রিজিয়ান জাতের একাধিক বড় গরু রয়েছে তার খামারে, যেগুলোর প্রতিটির ওজন প্রায় ১৫ থেকে ২০ মণ।
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনি গরুগুলো বিক্রির প্রস্তুতি নিলেও পশুখাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে আশানুরূপ দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
সোহেল রানা বলেন, “প্রতিবছর কোরবানির এক-দুই মাস আগে খুলনা থেকে গরু ব্যবসায়ীরা এসে গরু কিনে নিয়ে যেতেন। এবার এখন পর্যন্ত কোনো ক্রেতার খোঁজ নেই। মনে হচ্ছে এবার লোকসান গুনতে হবে।”
শুধু সোহেল রানা নন, একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন উপজেলার অনেক খামারি। পেড়লী ইউনিয়নের খড়লিরা গ্রামের অনেক পরিবার গরু, ছাগল ও ভেড়া পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কোরবানির সময় এসব পশু বিক্রি করেই বছরের বড় অংশের সংসার চালান তারা।
স্থানীয় আরেক খামারি রিপন মিয়া জানান, তার খামারে এ বছর ২২টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২১টি শাহীওয়াল জাতের। তিনি বলেন, “গত বছর খৈল ২২০০ টাকায় কিনেছি, এবার তা ৩৩০০ টাকা। খাদ্যের দাম বাড়লেও যদি ন্যায্যমূল্য না পাই, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।”
খামারিদের অভিযোগ, শুধু খৈল নয়, ভুসি, খড়সহ সব ধরনের পশুখাদ্যের দামই বেড়েছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে, কিন্তু বাজারে সে অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে না।
তাদের দাবি, ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ বন্ধ থাকলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পেতেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলায় মোট ৪৫ হাজার ৪৯৭টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড়, বলদ, গাভী, ছাগল ও ভেড়া রয়েছে। জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৩৯ হাজার ৭৩৩টি, ফলে উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ৫ হাজার ৭৬৪টি পশু, যা অন্য জেলায় বিক্রি করা হবে।
নড়াইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, পশুখাদ্যের দাম বাড়লেও খামারিদের ঘাস চাষ ও বিকল্প খাদ্য ব্যবহারে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, খামারি ও ক্রেতা—উভয়ের স্বার্থ বিবেচনায় বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

