আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় একই জাত, রং ও আকৃতির ১০টি গরু নিয়ে নজর কাড়ছে একটি ব্যতিক্রমী খামার।
ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম-এর ঘনশ্যামপুর গ্রামের ডেইরি ফার্ম-এ ফ্রিজিয়ান জাতের এই ১০টি গরু পালন করা হচ্ছে। প্রতিটি গরুর ওজন প্রায় ৬ থেকে ৮ মণের মধ্যে।
দূর থেকে দেখলে গরুগুলোকে প্রায় একই রকম মনে হয়—রং, উচ্চতা ও গঠন সবই প্রায় অভিন্ন। এই কারণে প্রতিদিন আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা খামারটি দেখতে ভিড় করছেন।
খামার মালিকের ছেলে সাকিব শেখ জানান, দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন হাট থেকে বেছে বেছে একই ধরনের গরু সংগ্রহ করা হয়েছে। এবার ঈদে একটি গরু পরিবারের জন্য রাখা হবে, বাকি ৯টি বিক্রি করা হবে।
খামারি শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি গত তিন বছর ধরে গরু মোটাতাজাকরণ ও ডেইরি ফার্ম পরিচালনা করছেন। প্রতিটি গরু কেনা হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়, আর এবারের ঈদে এগুলো ৩ থেকে ৬ লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় ক্রেতা ও ব্যাপারীরা জানান, একই রঙ ও আকৃতির গরুর আলাদা বাজার চাহিদা থাকে এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিচর্যার কারণে এসব গরুর প্রতি আগ্রহ বেশি।
আল আমিন জানান, খামারে বর্তমানে চারজন কর্মী কাজ করছেন এবং প্রতিটি গরু দৈনিক ১০ থেকে ১৫ কেজি খাবার খাচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ছাহেব আলী জানান, এবার জেলায় কোরবানির চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে এবং উদ্বৃত্ত পশু বাজারে আসবে।
ঈদকে সামনে রেখে এমন ব্যতিক্রমী খামার স্থানীয়ভাবে যেমন আগ্রহ তৈরি করেছে, তেমনি দেশীয় পশু খাতেও নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

