রাজশাহীর পুঠিয়ায় আম কুড়ানোর লোভ দেখিয়ে এক বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৬) পাটখেতে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহকর্মী রফিক মিস্ত্রি (৫৫)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২১ জুন) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে, গত শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পুঠিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঝলমলিয়া সরকারপাড়া এলাকায় এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃত রফিক মিস্ত্রি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে স্থানীয় ‘ভাই ভাই ট্রাভেলসের’ মালিক মুকুলের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।
আম কুড়ানোর প্রলোভন ও ধর্ষণ
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা জানান, ঘটনার দিন দুপুরে বাড়িতে অন্তত ২০ জন আত্মীয় আসায় তিনি রান্নাবান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় বাড়ির বাইরে রোদে দেওয়া ভুট্টা পাহারা দিচ্ছিল তার জন্মগত বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী মেয়েটি। দুপুরের দিকে প্রতিবেশী মুকুলের বাড়ির গৃহকর্মী রফিক মিস্ত্রি তাকে আম কুড়ানোর লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর বাড়ির পাশের ওয়াদ আলীর একটি পাটখেতের ভেতর নিয়ে কিশোরীটিকে ধর্ষণ করে।
অভিযুক্তের অতীত ও বক্তব্য
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রফিক মিস্ত্রি ৫ সন্তানের জনক। ইতিপূর্বে চারিত্রিক সমস্যার কারণে তার চার স্ত্রীর মধ্যে ৩ জনই তাকে তালাক দিয়ে চলে গেছেন। বর্তমানে তিনি এক স্ত্রীকে নিয়ে ওই এলাকাতেই বসবাস করছেন। এর আগেও এলাকায় নারীদের উত্ত্যক্ত করা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে লোকলজ্জার ভয়ে সেসব বিষয় ধামাচাপা পড়ে যায়।
অবশ্য ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে রফিক মিস্ত্রি দাবি করেন:
“আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। শিশুটি আমার নাতনির মতো। তাকে আম কুড়াতে নিয়ে গিয়েছিলাম। এক বাগানে আম না পেয়ে পাটখেতের ভেতর দিয়ে অন্য আরেকটি আমবাগানে নিয়ে গিয়েছিলাম মাত্র।”
পুলিশের পদক্ষেপ
এ ব্যাপারে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। এছাড়া ভুক্তভোগী কিশোরীকে ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

