
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা, চাকরি ও স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকদের যে আধিপত্য ছিল, সেটি এখন চাপে পড়ছে। সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসা নীতিমালা ও অভিবাসন প্রক্রিয়ার পরিবর্তনে ভারতীয়দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মার্কিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয়। কিন্তু নতুন ভিসা নীতিতে এখন শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত আর্থিক প্রমাণপত্র, কঠোর যাচাই এবং কোর্স-পরবর্তী অবস্থান সীমিতকরণ শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা যুক্তরাজ্যের দিকে ঝুঁকছেন।
H-1B ভিসা—যা বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় কর্মভিসা—সেখানেও ভারতীয়দের ওপর প্রভাব পড়েছে। নতুন কোটা সীমাবদ্ধতা, কোম্পানি যাচাই এবং ভিসা নবায়নে জটিলতা বৃদ্ধির কারণে প্রযুক্তি খাতের অনেক ভারতীয় কর্মী অস্থিরতায় রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে এখন স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দিতে চায় বাইডেন প্রশাসন। বিশেষ করে নির্বাচনের বছর সামনে রেখে অভিবাসন প্রশ্নে আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে মার্কিন সরকার।
গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় ভারতীয়দের জন্য অপেক্ষার সময় এখন দশকের পর দশক লম্বা হয়ে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে ২০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে অনেকেই পরিবার নিয়ে অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন বা স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছা ত্যাগ করছেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “ভারতীয় তরুণরা এখন কানাডা, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুরের মতো দেশে বেশি আবেদন করছে। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপ এবং সীমিত ভিসা প্রক্রিয়া অনেকের জন্য ‘অভিবাসনের স্বপ্ন’কে দূরে ঠেলে দিচ্ছে।”
যুক্তরাষ্ট্র একসময় ভারতীয় মেধাবীদের স্বপ্নের গন্তব্য ছিল। এখন সেই দরজা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও, তার পথ নিঃসন্দেহে আরও সরু হয়ে গেছে। বিশ্বায়নের যুগে প্রতিভা সীমানা মানে না—কিন্তু নীতিমালার জটিলতা প্রতিভাবানদের পথ আটকে দিতে পারে।
HRS
