লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হায়দারগঞ্জ তাহেরিয়া আরএম কামিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ মজুমদার যোগদান করেছেন। গত ৫ আগস্টের পর থেকে (১৫ মাস পর) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সোমবার বিকালে (২০ অক্টোবর) শিক্ষক মিলনায়তনে উপস্থিত হন অধ্যক্ষ। এ সময় অধ্যক্ষের পক্ষে স্লোগান দিয়ে গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে অধ্যক্ষের আসার খবরে মাদ্রাসার মাঠে ৭-৮টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাৎক্ষণিক চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লাহ শাহি জামে মসজিদের খতিব ও ইসলামি ফাউন্ডেশনের গভর্নর সাইয়েদ আনোয়ার হোসেন তাহের জাবেরী উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
উল্লেখ্য মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণি থেকে কামিল পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এতে ৪৫ জন এমপিও-ননএমপিও শিক্ষক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পুলিশ সুপার আক্তার হোসেনের উপস্থিতিতে প্রথম পক্ষ সাইয়্যেদ আনোয়ার হোসেন তাহের জাবেরী ও আনাস সাইয়্যেদ মোহাম্মদ আনাস এবং ২য় পক্ষ সাইয়্যেদ তাহের জাবেরী, জাহেদ ইজ্জুদ্দীন তাহের জাবেরী ও মোহাম্মদ মাহবুব জাবেরী সাথে ৫ শর্তে লিখিত চুক্তিনামা সম্পাদন করা হয়।
চুক্তিনামাগুলো হলো- ১. বর্তমানে দায়িত্ব প্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ মজুমদার তিনি আগামী ২০ অক্টোবর হতে নিয়মিত উক্ত প্রতিষ্ঠানে অফিস করবেন। অফিস করাকালীন সময়ে তিনি ব্যাক ডেটে (পিছনের তারিখে) কোনো প্রকার ডকুমেন্টন্স সৃজন/ধ্বংস করতে পারবে না। উক্ত কর্মকালীন সময়ে কমিটির সকল সদস্যের সিদ্ধান্ত ব্যতীত একক সিদ্ধান্তে কাউকে নিয়োগ বা প্রত্যাহার করতে পারবে না। অফিস করাকালীন সময়ে তিনি যাতে কোনো প্রকার ডকুমেন্টন্স সৃজন/ধ্বংস করতে না পারে সেই জন্য ২য় পক্ষের মনোনীত একজন প্রতিনিধি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবেন। অধ্যক্ষ উক্ত মনিটরিং-এ কোনো প্রকার বিরক্তি বা আপত্তি জানাতে পারবে না।
২. ১৬ অক্টোবর হতে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে (১ মাস) উক্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন জনিত বিষয় সংক্রান্তে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে অডিট সম্পন্ন করতে হবে। অদ্য ১৬ অক্টোবর পর হতে আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে চিঠি প্রেরণ করতে হবে।
৩. আমরা উভয়পক্ষ উপরে উল্লিখিত ১নং ও ২নং শর্ত বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব এবং প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেই জন্য আগামী কর্ম দিবসে মাদ্রাসা চলাকালীন উভয় পক্ষ এক সাথে ছাত্র/ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে গঠনমূলক বক্তব্য পেশ করব।
৪. অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ মজুমদারের অতীত এবং ভবিষ্যত আচরণগত বিষয়ে মনিটরিং এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের জন্য আমরা উভয় পক্ষ ২ জন করে ৪ জন প্রতিনিধি দিব। এছাড়া ২ জন পুলিশ অফিসার নির্ধারণ করা হবে। উক্ত প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অধ্যক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
৫. আমরা উভয়পক্ষ ১-৪নং ক্রমিকে বর্ণিত সিদ্ধান্ত সমূহ মেনে চলতে বাধ্য থাকব। কেউ এর ব্যতিক্রম করলে বা অমান্য করলে উক্ত অঙ্গীকারনামা ভঙ্গ করা হয়েছে মর্মে গণ্য হবে।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ মজুমদারের অপসারণ দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অধ্যক্ষের কার্যালয় ঘেরাও করেছিল শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের বেতন নিয়ে অনিয়ম, আয়-ব্যয়ের অডিট না করা, শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার, সরকারি বই বাজারে বিক্রি, বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ তুলে।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সাঈয়্যেদ আনোয়ার হোসেন তাহের জাবেরী আল মাদানি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট দলের মাধ্যমে অভিযোগের তদন্ত করা হবে। তদন্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য তাহের জাবেরি বলেন, অধ্যক্ষ একজন দূর্ণীতিবাজ, গত দশ বছরে মাদ্রাসায় কোন অডিট হয়নি। ঘটনার পর তিনটি অডিট দল গঠন করা হলেও তা ফলাফল আসেনি। তাই পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে তার কার্যালয় এ লিখিত সিদ্ধান্ত হয় ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত পর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি আপাতত মাদ্রাসায় প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাবেন।
অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ মজুমদার জানান, মূলত গত বছরের ৫ আগস্টের পর একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ওই চক্রটি শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন।

