রাজশাহীর বাগমারায় দুই নারীকে কফির সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে মালামাল লুটের অভিযোগে দুই যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া দুই জোড়া নুপুর উদ্ধার করা গেলেও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা যায়নি।
গ্রেফতার যুবকরা হলেন- রাজশাহীর তানোরের আড়াদিঘি গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম (২৪) ও কালনা গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে মশিউর রহমান (২৩)।
রোববার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রতারিত ওই নারীদের একজনের নাম রূপা খাতুন। তিনি চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। রূপার বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বান্দাই খাঁড়া গ্রাম।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতার তৌহিদুল ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন।
পুলিশ ও প্রতারিত নারীর অভিযোগে জানা গেছে, ফেসবুকে রূপা খাতুনের (৩১) সঙ্গে তৌহিদুল ইসলাম পরিচয় হয়। ওই যুবক ‘কষ্টের জীবন’ নামে আইডি খুলে রূপা খাতুনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করেন। ওই যুবক নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিতেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী সম্প্রতি রূপা খাতুন গ্রামে আসেন। বিষয়টি জানার পর গত ২০ অক্টোবর তৌহিদুল তার সহযোগী মশিউরকে সঙ্গে নিয়ে নারীর সঙ্গে দেখা করতে তাদের গ্রামে যান। রূপাকে ফোন দিলে স্থানীয় বাজারে গিয়ে তৌহিদ ও মশিউরের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় রূপার এক খালাতো বোনও তার সঙ্গে ছিল।
এদিকে রূপা ও তার খালাত বোনকে চাইনিজ ও কফি খাওয়ানোর কথা বলে প্রতারকরা তাদের বাগমারার ভবানীগঞ্জ বাজারে নিয়ে যায়। ভবানীগঞ্জ নিউমার্কেটের একটি দোকানে সবাই কফি পান করেন। পরে চাাইনিজ খাওয়ানোর কথা বলে মার্কেটের পাঁচতলার চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বসে থাকার কিছুক্ষণের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন দুই নারী। প্রতারকরা দুই নারীর মোবাইল ফোন ও সোনার গয়না খুলে নিয়ে চম্পট দেয়। অচেতন অবস্থায় দুই নারীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
এদিকে গত ২৪ অক্টোবর প্রতারিত নারী বাগমারা থানায় মামলা করেন। পুলিশ ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে অনুসন্ধান করে দুই প্রতারককে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। শনিবার রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করে বাগমারা থানা পুলিশ।
প্রতারিত নারী জানান, তার ও খালাতো বোনের দুইটি মোবাইল ফোন ও সোনার গয়না ছিল। আমাদের পায়ের একজোড়া করে নুপুরও প্রতারকরা খুলে নিয়ে যায়।
বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, দুই প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পায়ের নুপুর এক জোড়া ছাড়া আর কিছু উদ্ধার করা যায়নি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাদের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

