পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর সাবেক মহাপরিচালক ফয়েজ হামিদকে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপসহ চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সামরিক আদালত ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। গত বছরের আগস্ট থেকে তিনি আটক অবস্থায় ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে বিচার চলছিল। ইমরান খানের শাসনামলে ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত তিনি আইএসআই-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তখন ইমরান এবং হামিদকে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখা হতো।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়, হামিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা, ক্ষমতা ও সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর তিনি সব অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হন। পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো আইএসআই প্রধানকে সামরিক আদালতে বিচার করে সাজা দেওয়া হলো।
সেনাবাহিনী জানায়, ফিল্ড জেনারেল কোর্ট মার্শাল সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে এবং হামিদকে নিজের পছন্দের আইনজীবীসহ সব অধিকার দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে তার আপিলের সুযোগও রয়েছে।
ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ২০২৩ সালের মে মাসে তার সমর্থকদের সামরিক স্থাপনা ও সরকারি ভবনে হামলার ঘটনায় হামিদের ভূমিকা নিয়েও পৃথক তদন্ত চলছে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের দাবি, হামিদ সীমা লঙ্ঘন করেছিলেন এবং ইমরানের দলের উপদেষ্টা হিসেবে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন।
রায় ঘোষণার পরও হামিদের পরিবার বা আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং ইমরান খানের দল পিটিআই এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন এবং তিনি ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছিলেন। ফয়েজ হামিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই ইমরানের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর উত্তেজনার অন্যতম কারণ ছিল।
পাকিস্তানের রাজনীতিতে কয়েক দশক ধরে সেনাবাহিনী সরাসরি শাসন ও সরকার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে আসছে।

