পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে— এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার দুই বোন উজমা খান ও আলিমা খান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা দাবি করেন, এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের নেতৃত্বাধীন সরকার এবং দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, এই ষড়যন্ত্রে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে জড়িত রয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। তারা বলেন, ইমরান খানের বিরুদ্ধে একটি ‘প্রাণঘাতী পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।
উজমা খান জানান, আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে তার সর্বশেষ সাক্ষাতের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘জেলে আমার কিছু হলে তার জন্য আসিম মুনির দায়ী থাকবেন।’
ষড়যন্ত্রের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে উজমা বলেন,
‘শেষ সাক্ষাতে আমার ভাই আমাকে জোর দিয়ে বলেছিলেন যেন আমি বাইরে গিয়ে একটি কথা প্রকাশ করি। তখন আমি রাজি হইনি। তিনি বলেছিলেন, তারা (সামরিক বাহিনী) ধীরে ধীরে তাকে মেরে ফেলবে এবং এর জন্য আসিম মুনির দায়ী থাকবেন। এখন জেল কর্তৃপক্ষের আচরণ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নকভির বক্তব্য থেকে বুঝতে পারছি— ইমরান ঠিকই বলেছিলেন।’
উজমা খান আরও অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি— যিনি একই সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান— তাদের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন।
তিনি বলেন,
‘নকভি আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। তারা রক্তের স্বাদ পেয়ে গেছে।’
ইমরান খান বা পরিবারের কোনো সদস্যের ক্ষতি হলে চরম প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন,
‘যদি ইমরান খানের বা আমাদের কিছু হয়, তবে মনে রাখবেন— আমরা কারো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ছাড় দেব না।’
অন্যদিকে আলিমা খান তার ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে জানান, ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে, কিন্তু তাকে তার বিশ্বস্ত চিকিৎসক দলের মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে দেওয়া হচ্ছে না।
ইমরানের আরেক বোন নওরিন খান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের কড়া সমালোচনা করে বলেন, তিনি নিজেকে মুসলিম বিশ্বের নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইলেও বাস্তবে তা প্রতিফলিত করছেন না।
নওরিন বলেন,
‘আপনি নিজেকে মুসলিম সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান বলেন এবং বক্তৃতায় কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করেন, অথচ সেগুলো নিজেই মানেন না। জাতি এখন সচেতন, আর পুরো বিশ্ব ইমরান খানের ওপর চালানো এই নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ দেখছে।’
তিনি আরও বলেন, এটি কেবল ইমরান খানের আইনি অধিকার লঙ্ঘনের বিষয় নয়; বরং এই অবৈধ ও অনৈসলামিক শাসনের অধীনে পাকিস্তানে চরম আইনহীনতার প্রতিচ্ছবি। এটি আসিম মুনিরের বিশ্বাস, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ বিচারের একটি কঠিন পরীক্ষা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের অবস্থান
ইমরান খানের পরিবারের নতুন এই অভিযোগ ইসলামাবাদে ক্ষমতাসীন শাহবাজ শরীফ সরকার ও ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে একাধিক মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন ইমরান খান, আর তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।
তবে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং তার বোনদের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে পাকিস্তান সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি মেডিকেল বোর্ড নিয়মিতভাবে ইমরানের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে।
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, পরীক্ষায় দেখা গেছে—
চশমা ছাড়া ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ৬/২৪ (আংশিক) এবং বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি ৬/৯ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

