আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, ডলারের দুর্বলতা এবং তেলের দাম কমে যাওয়ার প্রভাবে বুধবার (৬ মে) মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ২ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, স্পট গোল্ডের দাম বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪,৬৪৭.০৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসও বেড়ে প্রায় ৪,৬৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে পরিচালিত সামরিক কার্যক্রম স্থগিত করছেন। তিনি জানান, ইরান-এর সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার অগ্রগতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা কিছুটা কমে যাওয়ায় তেলের দামে পতন হয়েছে, যা স্বর্ণের দাম বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, ঝুঁকি কমে যাওয়ার ফলে বিনিয়োগকারীরা আবার স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
ডলার দুর্বল হলে অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়, ফলে এর চাহিদা বাড়ে। অন্যদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা থাকে, যা সুদের হার বাড়াতে পারে। যদিও স্বর্ণ সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত, উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগকারীদের সুদভিত্তিক সম্পদের দিকে আকৃষ্ট করে।
এদিকে বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নন-ফার্ম পে-রোল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন, যা দেশটির অর্থনীতির অবস্থা এবং ফেডারেল রিজার্ভ-এর ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বর্ণ ছাড়াও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। রূপার দাম ৩.৪% বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৭৫.৬২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্লাটিনাম ২.৪% বেড়ে ১,৯৯৯.৯৫ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ২.৬% বেড়ে ১,৫২৪.৫৯ ডলারে পৌঁছেছে।

