দীর্ঘ ৮ বছর পর আমেরিকা থেকে আমদানি করা হলো ৫৮ হাজার মেট্রিক টন ভুট্টা। ভুট্টাবাহী জাহাজ ‘এমভি বেলটোকিও’ নামক মাদার ভেসেলটি ওয়াশিংটনের ভ্যাঙ্কুভার বন্দর থেকে রওনা হয়ে ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দরের সদরঘাটের একটি জেটিতে লাইটার জাহাজ থেকে এ ভুট্টার আনুষ্ঠানিক খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
৫৮ হাজার টন ভুট্টার মধ্যে নারিশ ২৯ হাজার টন, প্যারাগন ১৯ হাজার টন এবং নাহার এগ্রো ১০ হাজার টন ভুট্টা আমদানি করেছে। এ পণ্য চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ এবং নোয়াপাড়া বন্দরে খালাস করা হবে বলে জানা গেছে।
বুধবার কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে মার্কিন ভুট্টার এই চালানকে স্বাগত জানাতে ‘দ্য রিটার্ন অব ইউএস কর্ন টু বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের এগ্রিকালচারাল অ্যাটাচে এরিন কোভার্ট। তিনি আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- নাহার এগ্রো গ্রুপের চেয়ারম্যান রাকিবুর রহমান টোটুল, প্যারাগন গ্রুপের গৌতম মজুমদার, নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারির পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবু ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এক্সেল এগ্রো ট্রেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াদ খান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও মিনেসোটায় উৎপাদিত প্রায় ৫৮ হাজার মেট্রিক টন ভুট্টা আমদানি করা হয়েছে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় তিন পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নাহার এগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন এবং নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড যৌথভাবে এ চালান আমদানি করেছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট বলেন, দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টার চালান এসে পৌঁছেছে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং দুই দেশের কৃষি-বাণিজ্যিক সম্পর্কের একটি মাইলফলক। সামনে এটি আরও সম্প্রসারিত হবে।
২০১৮ সাল পর্যন্ত সাধারণত বাংলাদেশ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও মিয়ানমার থেকে ভুট্টা আমদানি করত। মার্কিন দূতাবাসের প্রচেষ্টা এবং দ্রুত লোডিং পয়েন্ট ব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘ ৮ বছর পর এই বাণিজ্যিক ট্রায়াল সফল হয়েছে। আমদানিকারকরা মনে করছেন, মার্কিন ভুট্টার নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত হলে পশুখাদ্যের গুণগতমান বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে।

