ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের ওপর চরম চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশটির সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌ-অবরোধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার (১৩ এপ্রিল) পূর্ব উপকূলীয় সময় সকাল ১০টা (ইরান সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা) থেকে পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় এই অভিযান কার্যকর করা হয়েছে।
সামরিক অভিযানের বর্তমান পরিস্থিতি
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের সমস্ত উপকূলীয় এলাকা ও বন্দরগুলোতে এই সামরিক অবরোধ পুরোপুরি চালু রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই অবরোধের আওতায় ইরানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা যেকোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজই কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে। কোনো দেশ বা বাণিজ্যিক সংস্থাকেই এই বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
নৌ-চলাচলে সতর্কতা ও ইউকেএমটিও-র বার্তা
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো সমুদ্রপথে চলাচলকারী নাবিক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগেভাগেই সতর্কবার্তা প্রদান করেছে। ইউকেএমটিও-র নোটিশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে:
- নির্দিষ্ট লক্ষ্য: এই অবরোধ প্রধানত ইরানমুখী বা ইরান থেকে আসা জাহাজের ওপর কার্যকর হবে।
- হরমুজ প্রণালি: ইরান বাদে অন্য কোনো দেশের গন্তব্যে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর এই কড়াকড়ি কার্যকর হওয়ার কথা নয়।
- সামরিক উপস্থিতি: সতর্কতা হিসেবে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি রুট ব্যবহারকারী সাধারণ জাহাজগুলো এই অঞ্চলে ব্যাপক মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।
অবরোধের উদ্দেশ্য
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুদ্ধের পথে না গিয়ে ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া এবং দেশটির প্রধান আয়ের উৎস জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করাই এই বিশাল নৌ-অবরোধের মূল লক্ষ্য। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই অবরোধ পারস্য উপসাগরে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

