চলমান মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যে ইরানে অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে—এমন অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন অপপ্রচার’ বলে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে যে খবর প্রচার করা হচ্ছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
অভিযোগের নেপথ্যে মার্কিন গণমাধ্যম
সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী চীন তেহরানকে নতুন উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, বেইজিং ইতিমধ্যে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের একটি চালান ইরানে পাঠিয়েছে। মূলত এই প্রতিবেদনগুলো ঘিরেই আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়।
চীনের প্রতিক্রিয়া
গণমাধ্যমের এসব দাবি সরাসরি অস্বীকার করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন:
“চীন সবসময় সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে। আমরা ভিত্তিহীন অপপ্রচার বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপসংযোগের তীব্র বিরোধিতা করি।”
চীন-ইরান সম্পর্কের সমীকরণ
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার এবং দেশটির তেলের বড় ক্রেতা। তবে দুই দেশের মধ্যে গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক চুক্তি নেই। বেইজিংয়ের নীতি মূলত অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

