স্থান: গাজা সিটি, ফিলিস্তিন | তারিখ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫
ইসরায়েলকে সহায়তার অভিযোগে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস গাজা উপত্যকায় ৩৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। সংগঠনটির নিয়ন্ত্রিত তথ্যমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই ব্যক্তিরা গত কয়েক মাসে ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ, হামাসের অবস্থান ফাঁস এবং সামরিক অভিযানকে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।
হামাসের তথ্যমন্ত্রী প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং দখলদার শক্তির পক্ষে কাজ করার প্রমাণ পাওয়ার পর বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে।” মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রকাশ্যে গুলি করে এবং বাকিদের ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানা গেছে।
গাজার স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ঘটনাস্থলের চারপাশ কঠোর নিরাপত্তায় ঘিরে রাখা হয়। সাধারণ মানুষকে দূরে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে কিছু এলাকায় মানুষ জড়ো হয়ে এই ঘটনাকে “বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার” বলে সমর্থন জানায়। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে “অবৈধ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, “যুদ্ধকালীন অবস্থায়ও প্রতিটি অভিযুক্তের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। হামাসের এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।” তারা আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় চলমান সংঘাত ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার মধ্যে হামাসের এ ধরনের পদক্ষেপ মূলত সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণ শক্ত করার প্রচেষ্টা। সম্প্রতি গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের বহু নেতৃস্থানীয় কমান্ডার নিহত হয়েছেন। ফলে, সংগঠনটি আশঙ্কা করছে অভ্যন্তরীণভাবে তথ্য ফাঁসের কারণে তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে।

