গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা–এর অন্তত দুটি জাহাজে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্লোটিলার আয়োজকদের দাবি, একটি ভিডিওতে ইসরায়েলি সেনাদের গুলি ছোড়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে।
একই দিনে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে থাকা প্রায় ৫০টি নৌযান আটক করেছে ইসরায়েল। ফ্লোটিলা সূত্র বলছে, অংশগ্রহণকারী সব নৌযানই আটক হয়েছে এবং যাত্রীরা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা কোনো প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করেনি এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তাদের দাবি, একাধিকবার সতর্ক করার পরও নৌযানগুলো এগিয়ে যাওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং গুলি নৌযান লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে, ব্যক্তির দিকে নয়।
ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৩০ জন অংশগ্রহণকারীকে তাদের জাহাজে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের ইসরায়েলে আনা হচ্ছে। পরে তাদের নিজ নিজ দেশের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ফ্লোটিলা আয়োজকদের দাবি, এতে ৪০টির বেশি দেশের ৪২৮ জন অংশ নিয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তুর্কি নাগরিক রয়েছেন। তবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের তথ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।
এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, গাজার নৌ অবরোধ ভাঙতে দেওয়া হবে না। গত বৃহস্পতিবার তুরস্ক থেকে ফ্লোটিলাটি যাত্রা শুরু করে, যা ছিল এ ধরনের তৃতীয় প্রচেষ্টা। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ফ্লোটিলার সঙ্গে যুক্ত চার ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যাদের তারা হামাসপন্থী বলে উল্লেখ করেছে।

