বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন নাসা গ্রুপের শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে তীব্র গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী ও যানবাহন চালক।
অবরোধের নেপথ্যে বকেয়া বেতন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা ইপিজেডে অবস্থিত নাসা গ্রুপের শ্রমিকদের বেশ কিছু দিনের বেতন বকেয়া রয়েছে। পাওনা আদায়ের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেন শতাধিক শ্রমিক। এসময় তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন।
৩০ কিলোমিটার যানজটে স্থবির মহাসড়ক
শ্রমিকদের টানা দুই ঘণ্টার অবরোধে মহাসড়কের মিয়ার বাজার থেকে মাধাইয়া পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। মহাসড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়লে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয় শত শত গণপরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাককে।
ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী তিশা পরিবহনের যাত্রী ইব্রাহিম খলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল ১০টায় জটে পড়েছি। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত দাউদকান্দি থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত রাস্তাতেই আটকে থাকতে হয়েছে।” এশিয়া লাইন পরিবহনের যাত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ২ ঘণ্টার এই অবরোধের প্রভাব সারা দিনব্যাপী অনুভূত হয়েছে এবং দিনভর মহাসড়কটি কার্যত অচল ছিল।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও লাঠিচার্জ
খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ, জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে দুপুর ১২টার পর যান চলাচল শুরু হয়। তবে দীর্ঘ যানজটের কারণে স্বাভাবিক গতি ফিরতে অনেক সময় লাগে।
প্রশাসনের বক্তব্য
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম জানান, বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা সড়কে নেমেছিল। পুলিশ তাদের শান্ত করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে। দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করতে হাইওয়ে পুলিশ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

