দিনাজপুরে আসন্ন কোরবানিকে কেন্দ্র করে পশুর হাটগুলোতে উঠতে শুরু করেছে গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন পশু। তবে এবার বাজারে সরবরাহ বেশি হলেও বেচাকেনা এখনও তেমন জমে ওঠেনি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় ৬২ হাজার ৪০৮ জন খামারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে মোট প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
জেলার ১৩টি উপজেলায় মোট ৬৮টি পশুর হাট পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর, ঘোড়াঘাটের রানীগঞ্জ, পার্বতীপুরের আমবাড়ী এবং রংপুরের বদরগঞ্জ সংলগ্ন হাটগুলো সবচেয়ে বড় হিসেবে পরিচিত। তবে এখনো এসব হাটে কেনাবেচা পূর্ণ মাত্রায় শুরু হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক থাকলেও বেচাকেনা তুলনামূলক কম। এবার বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। ক্রেতারা বলছেন, এখনই গরু কিনলে বাড়িতে রাখার ঝামেলা হবে—তাই ঈদের এক-দুই দিন আগে কেনার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।
খামারিরা অভিযোগ করছেন, পশুর খাদ্য ও লালন-পালনের খরচ বাড়লেও বাজারে দাম কমে গেছে। এতে তারা লোকসানের মুখে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন।
পার্বতীপুরের আমবাড়ী হাটে শাহীওয়াল জাতের চারটি ষাঁড় নিয়ে আসা খামারি সাহেব আলী জানান, তিনি প্রতিটি গরুর দাম আড়াই লাখ টাকা চাইলেও ক্রেতারা দেড় থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বলছেন। গত বছর একই ধরনের গরু তিনি দুই লাখ ২০ থেকে দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন।
আরেক খামারি জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুটি দেশি ষাঁড় পালন করতে তার প্রতিটির খরচ হয়েছে এক লাখ টাকার বেশি, কিন্তু বাজারে দাম পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। তাই অনেকেই গরু ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন পরের হাটের আশায়।
খামারি আব্দুর রহমান জানান, এবার পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় গরুপ্রতি অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু সে তুলনায় দাম পাওয়া যাচ্ছে না।
আরেক খামারি আলম হোসেন বলেন, ১২টি ষাঁড় পালন করে তার ২২ থেকে ২৪ লাখ টাকা খরচ হলেও বর্তমানে বেপারীরা ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা দাম দিচ্ছেন, যা লোকসানের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, এখনো ঢাকার বড় ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি বাজারে নামেননি। ফলে শেষ সময়ে দাম বাড়তে পারে বলে তারা আশা করছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার জেলায় মোট ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি গরু, ২৪৮টি মহিষ, ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯০টি ছাগল, ১৩ হাজার ৭২৯টি ভেড়া ও ১১টি দুম্বা কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম বলেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিদের প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালনে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাটগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত, পুলিশ ও ব্যাংক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও জাল টাকা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

