মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হামাসের শীর্ষ সামরিক নেতা ইজ্জ আল-দিন আল-হাদাদ-কে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইল। শুক্রবার বিকেলে গাজা সিটিতে চালানো এক বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও ইসরাইলি নিরাপত্তা সংস্থা।
যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, একটি “সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত হামলার” মাধ্যমে আল-হাদাদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার জরুরি পরিষেবা বিভাগ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শনিবার উত্তর গাজার বিভিন্ন মসজিদ থেকেও আল-হাদাদের মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি হামাস।
ইসরাইলের অভিযোগ, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন আল-হাদাদ। এছাড়া জিম্মিদের আটকে রাখা এবং গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
গাজার জরুরি পরিষেবা সূত্রে জানা গেছে, প্রথম হামলাটি চালানো হয় গাজা সিটির আল-রিমাল এলাকার একটি আবাসিক ভবনে। এরপর কাছাকাছি একটি রাস্তায় থাকা একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় বিমান হামলা চালানো হয়।
আল-শিফা হাসপাতাল-এর পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া জানান, নিহতদের মধ্যে তিন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। এছাড়া ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-এর প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে আল-সারায়া ফিল্ড হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
গোপনীয় কর্মকাণ্ড ও রহস্যময় চলাফেরার কারণে হামাসের ভেতরে “আল-কাসামের ভূত” নামে পরিচিত ছিলেন আল-হাদাদ। হামাসের শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার, তার ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ার এবং মোহাম্মদ দেইফ নিহত হওয়ার পর তাকে সংগঠনটির অন্যতম প্রধান নীতিনির্ধারক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইল নিয়মিত গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইলের দাবি, এসব হামলা হামাসের অবস্থান বা সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধে পরিচালিত হচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলায় গাজায় ৮৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এদিকে জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার সাবেক বিশেষ সমন্বয়কারী নিকোলে ম্লাদেনভ বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি “ত্রুটিমুক্ত নয়”, তবে এটি অঞ্চলে একটি “আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা” তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, হামাসকে গাজার শাসনক্ষমতা ছাড়তে ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হতে হবে, যার ওপর গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্ভর করছে।

