ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনো শান্তি চুক্তি হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি চিরকাল ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন–এর জ্বালানি ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা আমোস হোচস্টাইন।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাস্তবসম্মত ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের প্রভাব কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। তার মতে, ওয়াশিংটন হয়তো চুক্তির কাগজে জলপথ উন্মুক্ত থাকার বিষয়টি গ্রহণ করবে, কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলো বাস্তবে তা বিশ্বাস করবে না, কারণ তারা জানে এই পয়েন্টে ইরানের কার্যত “ভেটো ক্ষমতা” রয়েছে।
বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের আলোচনা চললেও ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধ ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই উত্তেজনার প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েত ও বাহরাইনের তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে এবং কাতার তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিতে জরুরি অবস্থা (ফোর্স মেজার) ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে আংশিকভাবে তেল রপ্তানি চালু রেখেছে। ইরাকও সিরিয়া ও তুরস্ক হয়ে বিকল্প রুটে তেল রপ্তানির চেষ্টা করছে।
হোচস্টাইন আরও সতর্ক করে বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে বড় ধরনের অসংগতি তৈরি হয়েছে। কাগজে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যেখানে ১১০ ডলার দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে তা অনেক দেশে ১৫০ থেকে ১৭০ ডলারে কিনতে হচ্ছে। এমনকি দরিদ্র দেশগুলোতে দাম আরও বেশি বেড়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই জ্বালানি সংকট প্রথমে দরিদ্র দেশগুলোকে আঘাত করবে এবং পরে তা ধাপে ধাপে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ হয়ে উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ ইরানকে এড়িয়ে বিকল্প জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার দিকে ঝুঁকছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

