পূর্ব লন্ডনের কমিউনিটিতে পরিচিত সাবেক ইমাম আব্দুল হালিম খান-কে নারী ও শিশুদের ওপর ধারাবাহিক ও ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্নেয়ারসব্রুক ক্রাউন আদালত এই রায় ঘোষণা করে। বিবিসির প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, আদালত তাকে অন্তত ২০ বছর কারাভোগের পর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার সুযোগ দিয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ১১ বছরে অন্তত সাতজন ভুক্তভোগীর ওপর নির্যাতনের ঘটনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিচারক এই অপরাধকে “পরিকল্পিত ও দীর্ঘস্থায়ী যৌন লালসা চরিতার্থ করার অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেন।
প্রসিকিউশন পক্ষ জানায়, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ধর্মীয় অবস্থান ও প্রভাব ব্যবহার করে তিনি স্থানীয় বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির নারী ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানান।
বিচার চলাকালে উঠে আসে, ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি ‘জিনের আছর’ ও চিকিৎসার কথা বলে তাদের নির্জন ফ্ল্যাট বা গাড়িতে নিয়ে যেতেন এবং সেখানেই যৌন নির্যাতন চালাতেন।
একজন বিচারক মন্তব্য করেন, তিনি ভুক্তভোগীদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে “অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং এমনভাবে আচরণ করেছেন যেন তিনি আইনের ঊর্ধ্বে।
মামলার তদন্তে বলা হয়, দীর্ঘদিন নিজেকে একজন “সম্মানিত ধর্মীয় ব্যক্তি” হিসেবে উপস্থাপন করলেও তিনি ছিলেন ভয়ংকর অপরাধী। তদন্তে ‘অপারেশন স্পেয়ারব্যাঙ্ক’-এর মাধ্যমে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া তদন্ত শেষ পর্যন্ত এই রায়ের মাধ্যমে সমাপ্তি পায়।
যুক্তরাজ্যের শিশু সুরক্ষা সংস্থা (এনএসপিসিসি)। ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছে।
আদালতের এই রায়ের পর স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই আরও কঠোর করার দাবি জোরালো হয়েছে।

