দেশের কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবার চালু হচ্ছে বিশেষ ‘কৃষি কার্ড’। আগামীকাল পহেলা বৈশাখ টাঙ্গাইল থেকে এই ঐতিহাসিক কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সমাবেশস্থলের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াসিন।
কৃষকের অধিকার রক্ষায় নতুন দিগন্ত
পরিদর্শনকালে কৃষিমন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃষকরা যেন ন্যায্য মূল্য ও যথাযথ অধিকার পান, সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী এই কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পহেলা বৈশাখে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ায় দিনটি দ্বিগুণ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে নববর্ষের উৎসব, অন্যদিকে দেশের প্রথম কৃষক কার্ডের যাত্রা—যা দেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক।
৪ বছরে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে এই প্রকল্প
মন্ত্রী জানান, কার্যক্রমটি সরাসরি বড় পরিসরে শুরু না করে ধাপে ধাপে এগোবে:
প্রি-পাইলটিং: প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি স্থানে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
পরবর্তী ধাপ: প্রি-পাইলটিং সফল হলে শুরু হবে পাইলটিং।
পূর্ণ বাস্তবায়ন: আগামী ৪ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পুরো বাংলাদেশে এই প্রকল্প বিস্তৃত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
“মজলুম জননেতা ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত টাঙ্গাইলে এই কর্মসূচি শুরু হওয়া গর্বের বিষয়। আগামীকাল দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এটি একটি স্মরণীয় অনুষ্ঠান হবে।” — সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
স্থানীয়দের মাঝে উদ্দীপনা
পরিদর্শনকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “টাঙ্গাইলবাসী অত্যন্ত ভাগ্যবান যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই জেলাকে উদ্বোধনের জন্য বেছে নিয়েছেন। জমিদার প্রথার বিরুদ্ধে কৃষকদের আন্দোলন এই মাটি থেকেই শুরু হয়েছিল, তাই এখান থেকেই কৃষি কার্ডের যাত্রা শুরু হওয়া অত্যন্ত যৌক্তিক।”
এ সময় সমাবেশস্থলে আরও উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, কালকের সমাবেশে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়ে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হবেন।

