ঢাকাসহ ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন রুটে প্রায় ৪০০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া।
একই সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফ্লাইট কমানো ও কিছু রুট সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এয়ারলাইনটি জানিয়েছে, জেট ফুয়েলের রেকর্ড উচ্চ মূল্য, দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় বাড়তি খরচ এবং আকাশপথে বিধিনিষেধের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট কমানো, সময়সূচি পরিবর্তন এবং কিছু রুট সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে হাজারো যাত্রী প্রভাবিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং আকাশপথে চলাচলে বিধিনিষেধের ফলে দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইট পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের বরাতে জানা গেছে, দিল্লি–শিকাগো রুটের ফ্লাইট পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। দিল্লি–সান ফ্রান্সিসকো রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ১০টি থেকে কমিয়ে ৭টিতে নামানো হয়েছে, যা আগস্টের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে। দিল্লি–টরন্টো রুটেও ফ্লাইট কমানো হয়েছে।
একইভাবে দিল্লি–ভ্যাঙ্কুভার, দিল্লি–প্যারিস, দিল্লি–রোম, দিল্লি–জুরিখ, দিল্লি–মিলানসহ একাধিক ইউরোপীয় রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো হয়েছে। কিছু রুট যেমন দিল্লি–নিউয়ার্ক, মুম্বাই–নিউয়ার্ক এবং মুম্বাই–ঢাকা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক রুট—যেমন দিল্লি–সিঙ্গাপুর, দিল্লি–ব্যাংকক, মুম্বাই–ব্যাংকক এবং দিল্লি–কুয়ালালামপুর—এও ফ্লাইট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, যেসব যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাদের বিকল্প ফ্লাইটে বুকিং, বিনা খরচে তারিখ পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের সুযোগ দেওয়া হবে।
এর আগে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো ও স্পাইসজেটের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থাগুলো সরকারকে সতর্ক করে বলেছিল, জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির কারণে পুরো বিমান খাত “চরম চাপের” মধ্যে রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি “পরিচালনা সংকটের” পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

