সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে জাদুকাটা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে গিয়ে বালুধসে শাহ আলম (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার জাদুকাটা নদীর পূর্ব তীর সংলগ্ন লাউরগড়ের ঢালারপাড় এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহ আলম জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের মিয়ারচর গ্রামের সিরাজ আলীর ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। স্কুল বন্ধ থাকায় উপার্জনের আশায় আজ অন্যদের সঙ্গে বালু তুলতে গিয়েছিল সে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, জাদুকাটা নদীর পূর্ব পাড়ের লাউরগড়, ঢালারপাড়, রাজারগাঁওসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ভেকু ও ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। মঙ্গলবার ভোররাত থেকেই শতাধিক শ্রমিক ইজারাবহির্ভূত এলাকায় বালু কাটছিলেন। সকাল ১০টার দিকে ঢালারপাড় এলাকায় বালু কাটার সময় হঠাৎ ওপর থেকে বিশাল এক খণ্ড বালু ধসে পড়ে। এতে ট্রলারে থাকা শাহ আলম বালুচাপায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
পুলিশি ব্যবস্থা
ঘটনার পরপরই আইনি ঝামেলা এড়াতে প্রভাবশালী চক্রটি পুলিশকে না জানিয়েই নিহতের মরদেহ বিশ্বম্ভরপুরে তার নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। খবর পেয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ মিয়ারচর গ্রাম থেকে শাহ আলমের লাশ উদ্ধার করে।
“বালুচাপায় এক কিশোরের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা তার বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” — প্রণয় রায়, সহকারী পুলিশ সুপার (তাহিরপুর সার্কেল)
স্থানীয়দের অভিযোগ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা যোগসাজশে জাদুকাটা নদীর বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে পাড় কাটা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন নদী ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে শাহ আলমের মতো কিশোর শ্রমিকদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।

