মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার ওপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে গত মার্চ মাসে রাশিয়ার তেল রপ্তানি আয় পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
রপ্তানি ও আয়ের উল্লম্ফন
আইইএ-এর তথ্যমতে, গত মার্চ মাসে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্য রপ্তানি প্রতিদিন ৭১ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। এর ফলে রাশিয়ার মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১,৯০০ কোটি ডলারে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই আয়ের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যা ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আয়ের এই বিশাল ব্যবধানকে রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও মার্কিন ভূমিকা
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রপথে রুশ তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই ছাড়ের সুযোগে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন গত মাসে বেড়ে প্রতিদিন গড়ে ৮৯.৬ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
বাজারমূল্যে তেলের বিক্রয়
নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ির সময় রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অনেক কম দামে (ডিসকাউন্টে) তেল বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় তারা বাজারের স্বাভাবিক দামের কাছাকাছি মূল্যে তেল বিক্রি করতে পারছে। এর ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
“বিশ্ববাজারে তেলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় দেশগুলোর নমনীয় অবস্থান মস্কোকে তাদের রাজস্ব ঘাটতি পূরণে বড় সুযোগ করে দিয়েছে।” — আইইএ প্রতিবেদন
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে রাশিয়ার স্নায়ুযুদ্ধের মধ্যেই এই অর্থনৈতিক উত্থান ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

