যশোরের শার্শা উপজেলার বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকায় নিখোঁজ এক যুবকের মরদেহ গোয়ালঘরের মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্ক ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত যুবক ইকরামুল কবির (২৫), ওই এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে।
শনিবার (৯ মে) রাতে এক মাসেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকার আল ফারহাদের স্ত্রী মুন্নীর সঙ্গে ইকরামুলের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। প্রায় এক মাস পাঁচ দিন আগে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আল ফারহাদ, তার স্ত্রী মুন্নী, মুন্নীর সহযোগী কাকলি আক্তার এবং মুন্নীর বাবা ফজলু মোড়লকে গ্রেফতার করেছে।
পরে রোববার (১০ মে) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয় বলে জানান মারুফ হোসেন।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পরকীয়া সম্পর্ক ও অর্থ লেনদেনের বিরোধ থেকেই ইকরামুলকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনোভাবে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়।
নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল। পরে দীর্ঘ অনুসন্ধানেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, গত ৮ এপ্রিল রাতে শার্শার সেতাই এলাকা থেকে ইকরামুলকে ডেকে নেওয়ার পর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। এরপর বিভিন্ন থানায় অভিযোগ করেও প্রথমে কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
লাশ উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

