পাবলিক পরীক্ষায় বারবার অনুত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করার চিন্তা করছে সরকার— এমন আভাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ দুইবারের বেশি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারে।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মিলনায়তনে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী একাধিকবার ফেল করলেও তাকে বারবার পড়ানো, রেজিস্ট্রেশন করা এবং পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আমাদের লক্ষ্য কি শুধু ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাশ করানো, নাকি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নেওয়া?”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে প্রায় ৫৬ ধরনের প্রশ্নপত্র তৈরি করে শিক্ষার্থীদের পাশ করানোর ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পাশ করানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে মানসম্মত পর্যায়ে উন্নীত করা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
মতবিনিময় সভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিব ও শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

