চীন ও মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর কিংবা আশপাশের সড়কে নেতাকর্মীদের জড়ো হওয়া বা শোডাউন না করার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র নেতারা।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা উপলক্ষে বিমানবন্দরে কোনো শোডাউন হবে না। যানজট সৃষ্টি করে জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করা যাবে না। শুধুমাত্র দলের শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শুরু করেন। পরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস ২০২৬-এ অংশ নিতে চীনের দালিয়ান শহরে যান। সেখানে দুই দিন বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর বুধবার বিকেলে বেইজিং পৌঁছান তিনি।
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়ে স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
একই দিনে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গোয়িং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। এছাড়া তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের সঙ্গে দলীয় পর্যায়ে বৈঠক করেন।
চীনে অবস্থানকালে বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ নির্বাহী, চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশের উন্নয়নযাত্রায় আরও কার্যকর অবদান রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা আজ বিকাল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

