টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় খাগড়াছড়ির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও অনেকেই ঘর ছাড়তে রাজি হচ্ছেন না। আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবার, নিরাপদ স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি এবং শিশুদের নিয়ে থাকার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকার অভিযোগ তুলেছেন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী অনেক মানুষ।
শালবন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, “আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে কী খাব? ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে থাকার মতো পরিবেশও নেই। সময়মতো খাবারও দেয় না। তাই ঝুঁকি নিয়েই ঘরেই থাকতে বাধ্য হচ্ছি।”
একই এলাকার বাসিন্দা মো. আবুল খায়ের বলেন, “গত রাতে হঠাৎ ঘরের এক কোণা ধসে পড়েছে। যাওয়ার জায়গা নেই। ঘর ফাঁকা রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে আসবাবপত্র চুরি হয়ে যেতে পারে। তাই ঝুঁকি জেনেও বাড়ি ছাড়তে পারছি না।”
শুধু শালবন নয়, জেলা শহরের সবুজবাগ, কুমিল্লা টিলা, কলাবাগান, নেন্সীবাজার, মোল্লাপাড়া, কৈবল্যপিঠ, আঠারো পরিবার ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী শত শত পরিবার বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয়দের অনেকের আশঙ্কা, ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল চুরি হয়ে যেতে পারে। এ কারণে প্রাণহানির ঝুঁকি থাকলেও তারা বাড়ি ছেড়ে যেতে আগ্রহী নন।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। খাগড়াছড়ি জেলায় ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বাথরুম এবং নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আরও বেশি মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে আগ্রহী হবেন।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি এখনও কাটেনি। তিনি বলেন, খাবার না পাওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জেলা প্রশাসনের মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো সমস্যা হলে দ্রুত জানানো যায়।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে। আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ প্রতিরক্ষা টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

