তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘ ছয় দশকের প্রচলিত ধারা ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি ‘থালাপতি বিজয়’ নামেই বেশি পরিচিত। ১৯৬৭ সাল থেকে রাজ্যটিতে পালাক্রমে ক্ষমতায় থাকা ডিএমকে ও এআইএডিএমকের আধিপত্য ভেঙে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে তার দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে)।
মাত্র দুই বছর আগে গঠিত দলটি সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৭টি আসনে জয় পেয়ে রাজ্যের একক বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। যদিও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে পারেনি দলটি, তবুও সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন বিজয়।
রাজনীতিতে বিজয়ের এই উত্থান আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ একসময় তিনি নিজেকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন। ২০২০ সালে তার বাবা ও প্রখ্যাত পরিচালক এসএ চন্দ্রশেখর বিজয়ের অনুমতি ছাড়াই তার ফ্যান ক্লাবকে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে রাজনৈতিক দলে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করলে বিরোধ তৈরি হয়। পরে ২০২১ সালে নিজের বাবাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন বিজয়।
সে সময় আদালতে গিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তার নাম বা ছবি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা যাবে না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ গঠন করেন বিজয়। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে সেই দলই এখন তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলোর সমর্থন পেলে বিজয়ই হতে পারেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। ডিএমকের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও এআইএডিএমকের দুর্বল হয়ে পড়া জনভিত্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিজয়ের এই উত্থানকে তামিল রাজনীতির ‘নতুন সূর্যোদয়’ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
সিনেমার পর্দায় জনপ্রিয় এই তারকা এবার বাস্তব রাজনীতিতেও মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন দেখার বিষয়, পর্দার ‘থালাপতি’ প্রশাসনের ময়দানেও কতটা সফল নেতৃত্ব দিতে পারেন।

