ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নে টানা বৃষ্টি, শ্রমিক সংকট এবং ধান কাটার মেশিনের অভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও কৃষকদের মুখে এখন হতাশার ছাপ।
শনিবার (৯ মে) উপজেলার কেইলা বিল, মরিচালী বিল, ডৌহাখলা, মামদীপুর, দরুন লালমা, বাঁশাটি, আহসানপুরসহ বিভিন্ন বিল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নিচু জমির অধিকাংশ পাকা ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে উঁচু জমির ধান কাটতে শ্রমিক ও মেশিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধান কেটে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও অনেক ক্ষেত্রেই বিনামূল্যেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে মাঠেই ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
মরিচালী গ্রামের কৃষক আজিজুল হক বলেন, তিনি ১ একর ২০ শতাংশ জমির ধান বিনামূল্যে কেটে নেওয়ার অনুরোধ করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।
আহসানপুর গ্রামের কৃষক আবুল হাসিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে, এখন পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
কৃষক নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি। একই অভিযোগ করেন আব্দুর রাজ্জাকও।
এদিকে মনোয়ারা খাতুন জানান, তার পরিবারের এক একর জমির ধান পুরোপুরি পানির নিচে চলে গেছে, পাশাপাশি আরও জমির ধানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জলি জানান, অতিবৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে উপজেলার ৫ হাজার ১০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মোট ৫৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮০ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ৩৭০ হেক্টর আংশিক নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ৫০ হেক্টর জমির শাকসবজিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩০ হেক্টর পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৩০৯ মেট্রিক টন ধান ও ৬৪৬ মেট্রিক টন শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে তাদের বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে হবে।

