স্থান: মহারাষ্ট্র, ভারত | তারিখ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত ১৯ জন যাত্রী। বুধবার ভোররাতে রাজ্যের বুলধানা জেলায় একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরে গেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বাসটি তখন নাগপুর থেকে পুনে যাচ্ছিল। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টার দিকে হঠাৎ করে বাসটি সামনের দিক থেকে একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের পর মুহূর্তের মধ্যেই বাসের সামনের অংশে আগুন ধরে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো গাড়িটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পর তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, এরপর বাসটি সম্পূর্ণভাবে আগুনে ঘিরে যায়। অনেক যাত্রী তখন ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে তারা দ্রুত বাস থেকে বের হতে পারেননি। যারা জানালার কাছাকাছি ছিলেন, তারা প্রাণে বাঁচতে পেরেছেন। স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন, কিন্তু আগুনের তীব্রতার কারণে খুব বেশি কিছু করা সম্ভব হয়নি।
দমকল বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রায় আধাঘণ্টা পর। ততক্ষণে আগুন বাসের পুরো অংশে ছড়িয়ে পড়ে। দমকল কর্মীরা দীর্ঘ এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এরপর দেখা যায়, বাসের ভেতরে থাকা ১৯ জন যাত্রী আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। আহত অবস্থায় আরও অন্তত ৮ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংঘর্ষের ফলে বাসের সামনের ডিজেল ট্যাঙ্কে আগুন ধরে যায়। বাসটির ভেতরে থাকা দাহ্য পদার্থ ও লাগেজের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ শুরু করেছে।
বুলধানা জেলার পুলিশ সুপার অজয় দেশমুখ বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাকটির চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, যার ফলে এই সংঘর্ষ ঘটে। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে অনেকে পালাতে পারেননি। এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।”
ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ শোকবার্তা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “বুলধানায় বাস দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।” মুখ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা রাতভর উদ্ধার অভিযান চালান। ঘটনাস্থলে এখনও পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ফরেনসিক দল কাজ শুরু করেছে।
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আবারও প্রশ্ন তুলেছে ভারতের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাত্রীবাহী বাসে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকা ও চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম না দেওয়াই এমন দুর্ঘটনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

