বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও রামিসার আর্তনাদ: আর কতকাল?
মিরপুরের শিশু রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ যখন উদ্ধার হলো, তখন সমাজ হিসেবে আমাদের মানবিকতা আরও একবার মুখ থুবড়ে পড়ল। কিন্তু এই ঘটনায় সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্যটি ছিল রামিসার বাবার নির্বাক চাহনি। মেয়ের খুনিদের বিচারের দাবি জানাতে গিয়ে তার কণ্ঠে যে অনাগ্রহ ও নিস্পৃহতা ঝরে পড়েছে, তা এই রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের চরম আস্থাহীনতারই এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
রামিসার বাবা যখন বলেন, “বিচার চেয়ে কী হবে? বিচার তো পাব না,” তখন বুঝতে হবে আমাদের আইনি প্রক্রিয়া কতটা পঙ্গু হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। সাক্ষী না পাওয়া, তদন্তে গাফিলতি এবং প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের কারণে বিচার প্রক্রিয়া এতটাই দীর্ঘ হয় যে, ভুক্তভোগী পরিবার একসময় লড়াই করার শক্তি হারিয়ে ফেলে। এই দীর্ঘসূত্রিতাই অপরাধীদের মনে সাহস জোগায় যে, ‘কিছু হবে না’।
রামিসার সাথে ঘটে যাওয়া পাশবিকতার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ছে। এই ক্ষোভ কেবল রামিসার জন্য নয়, বরং বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি আমাদের গিলে খাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে। মানুষ চায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, যা দেখে ভবিষ্যতে কোনো নরপশু শিশুধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।
আমাদের দাবি: ত্বরিত বিচার নিশ্চিত করা
একটি সুস্থ সমাজে বিচার পাওয়ার অধিকার কোনো করুণা নয়, বরং নাগরিকের মৌলিক অধিকার। রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার যদি সাধারণ আইনি মারপ্যাঁচে আটকে যায়, তবে তা হবে বিচারব্যবস্থার চূড়ান্ত পরাজয়।
মামলাটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে নিয়ে দ্রুততম সময়ে রায় নিশ্চিত করতে হবে।
কোনো মহলের চাপ ছাড়াই পুলিশি তদন্ত শেষ করতে হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা এবং সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
রামিসার বাবার চোখের জল শুকিয়ে গেছে, কিন্তু আমাদের বিবেকের দংশন কি থামবে? আমরা যদি আজ রামিসার বিচার নিশ্চিত করতে না পারি, তবে আগামীর বাংলাদেশ কোনো শিশুর জন্যই নিরাপদ হবে না। রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগের কাছে আমাদের আকুল আহ্বান—আর কোনো দীর্ঘসূত্রিতা নয়, রামিসার খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে এই আস্থাহীনতার অবসান ঘটান।
