গাইবান্ধার সাঘাটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আশরাফ নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্তসহ অন্যরা পলাতক রয়েছেন।
রোববার (২১ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বোনারপাড়া ফায়ার স্টেশন সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের অভিযুক্ত মুকুল ও পলাশের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত পৌনে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে মোকলেছুর রহমান মুকুল ও পলাশ আপন দুই ভাই। তারা ওই গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি। এ ঘটনায় আটক আশরাফ খন্দকার (৩৬) একই গ্রামের আকবর খন্দকারের ছেলে।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি ছিলেন। তিনি শিমুলতাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে এবং রংপুরের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসার আল কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জামায়াতের কর্মী সালাউদ্দিন। তিনি একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সন্ধ্যায় স্থানীয় জামায়াত-শিবির বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এতে নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীও অংশ নেন। পরে বিক্ষুব্ধরা অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার তোফাজ্জাল হোসেন জানান, ২২ সদস্যের একটি দল প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রায় ১৫ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পবিত্র কুমার বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আশরাফ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল করেছে। রাত ৯টার দিকে জেলা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে মিছিল করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এতে জামায়াতের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। ঢাকাতেও একই দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
অন্যদিকে জাতীয় সংসদে অধিবেশন শেষে সংসদ চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেন গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ। তিনি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। এ সময় গাইবান্ধার জামায়াত সমর্থিত অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বোনারপাড়া বাজারের চারমাথা এলাকায় কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কের একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীর গলায় লোহার শাবলের আঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
একই সময় তার বন্ধু সালাউদ্দিনও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

