স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাবাদী গোষ্ঠী রয়েছে যারা বিভিন্নভাবে সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায় এবং ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর পতিসর রবীন্দ্র কাছাড়িবাড়িতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও নওগাঁ জেলা প্রশাসন।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা কেউ চাই না দেশে আবার কোনো গোলযোগ হোক। জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা যে লড়াই করেছে, আমরা একে জুলাই যুদ্ধ বলি। সেই আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন এসেছে এবং মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে আছে।”
তিনি বলেন, “যারা ফ্যাসিস্ট ছিল তারা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। ব্যাংক লুটপাট করেছে, প্রশাসনকে ধ্বংস করেছে। সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করেই আমরা আজকের অবস্থানে এসেছি। এখন অনেকে সেই পরিবর্তনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, শত বছর পরেও রবীন্দ্রনাথ প্রাসঙ্গিক। পতিসরে এসে তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং কৃষিকে আধুনিক করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
নিজের সাহিত্যপ্রেমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি কোনো পণ্ডিত নই, তবে সাহিত্য ভালোবাসি। রবীন্দ্রনাথ, নজরুলসহ সব ধরনের সাহিত্যই আমার প্রিয়। যে মানুষ সাহিত্যচর্চা করে, কবিতা পড়ে বা গান শোনে, সে নিঃসন্দেহে ভালো মানুষ হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের রাজনীতি এখনও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হয়নি। মানুষ বারবার পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ আমাদের মূল ভিত্তি। আমরা নয় মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। একইভাবে গণতন্ত্রও আমরা সংগ্রামের মাধ্যমেই ফিরিয়ে এনেছি।”
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

