সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়— ‘হাসিনা খারাপ কিন্তু তার নীতি ভালো’। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হলেও ফ্যাক্ট-চেকিং অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য। মূলত বিএনপির সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি এই বিদ্রূপাত্মক মন্তব্যটি করেছিলেন, যা ভিডিওর একটি অংশ কেটে প্রচার করা হচ্ছে।
বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট
রিউমর স্ক্যানারসহ বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ডা. শফিকুর রহমান শেখ হাসিনার কোনো প্রশংসা করেননি। প্রকৃতপক্ষে, তিনি বিএনপির সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ‘ফ্যাসিবাদ’মূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “তারা (বিএনপি) আগেরটায় ফিরে গিয়ে প্রমাণ করলেন, হাসিনা খারাপ কিন্তু হাসিনার নীতি ভালো।” অর্থাৎ, তিনি বোঝাতে চেয়েছেন বিএনপি যদি একই ধরণের বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে তারা কার্যত শেখ হাসিনার অনুসৃত নীতিকেই বৈধতা দিচ্ছে। মূল ভিডিওটি কেটে বিকৃতভাবে শেয়ার করার ফলে জনমনে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
জনবিরোধী বিল পাশের অভিযোগে সংসদ থেকে জামায়াতের ওয়াকআউট
এদিকে, গত ৯ এপ্রিল সংসদীয় রাজনীতিতে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ এনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল।
সংসদ অধিবেশন শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন:
“আজকের অধিবেশনে এমন কিছু জনবিরোধী বিল উত্থাপন করা হয়েছে যা সুষ্পষ্টভাবে জনগণের অধিকার হরণ করে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাতে চাইলে সংসদে আমাদের কথা বলার সুযোগ সীমিত করা হয়।”
স্পিকারের ভূমিকার সমালোচনা
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন:
অসম বণ্টন: বিরোধী দলীয় সদস্যদের জন্য মাত্র ২ থেকে ৬ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।
মন্ত্রীর সুযোগ: সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা কোনো সময়সীমা ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন।
সংসদীয় রীতি লঙ্ঘন: স্পিকারের এই ধরণের ভারসাম্যহীন আচরণকে সংসদীয় রীতির পরিপন্থি এবং বিরোধী দলের কণ্ঠরোধের একটি অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত আমিরের বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করা রাজনৈতিক অপকৌশলেরই অংশ। প্রকৃত অর্থে তিনি বর্তমান সরকারের পাশাপাশি রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কর্মকাণ্ডের ওপরও কড়া নজর রাখছেন এবং তীক্ষ্ণ সমালোচনা করছেন।

