আধুনিক প্রতারণার নতুন নাম যেমন অনলাইন জুয়া, ফরেক্স ট্রেডিং তেমনি গোদের উপর বিষফোড়ার মতো রিসোর্ট ব্যবসাও যেনো এক নতুন প্রতারণার কৌশল! এবার ফেনীর জহির উদ্দিন রাসেল রিসোর্ট এবং ফরেক্স ট্রেডিং এ বিনিয়োগের নাম করে ফেণী হতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা নিয়ে কাতার পালিয়েছে। জহির উদ্দিন রাসেল সপরিবারে আশ্রয় নিয়েছে কাতারে।
জহির উদ্দিন রাসেলে এহেন অপকর্মের ভুক্তভোগী প্রায় ১৫০০ পরিবার।
সারা দেশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কোথাও না কোথাও প্রতারণার জাল। কখনো তা অনলাইন জুয়ার বেশে, কখনো ফরেক্স ট্রেডিংয়ের আড়ালে, কখনো ক্রিপ্টোকারেন্সির বেশে। সম্প্রতি নেট-দুনিয়ার কল্যাণে আধুনিক এক বিষ ফোঁড়ার অপর নাম রিসোর্ট এবং ফরেক্স ট্রেডিং এ বিনিয়োগ। কত শত তরুণ-যুবক রিসোর্ট এবং ফরেক্স ট্রেডিং এ বিনিয়োগের ফাঁদে যে নিঃস্ব হলো তার কোন লিখিত দলিল কারো কাছেই সংরক্ষিত নেই।
বাংলাদেশে প্রতারণা কোন নতুন কিছু না। প্রতারণা এখন প্রতিদিনের ডাল-ভাতের মতো। কিন্তু নতুন নতুন মোড়কে প্রতিনিয়ত যে প্রতারণার জাল পাতা হয়, সে জালে কোন রাঘব বোয়াল না, প্রতিদিন ধরা পড়ে, প্রতারিত হয় মধ্যবিত্ত, নিন্ম মধ্যবিত্ত আর দিন দিন আরো সর্বশান্ত হয় এদেশের সর্বহারারাই! আর এ সর্বহারাদের সর্বশান্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠে জহির উদ্দিন রাসেলদের মতো ডিজিটাল প্রতারকরা।
চলতি সময়ে ৪ দেশে কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের নামে জহির উদ্দিন রাসেলরা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র হিসেবে রিসোর্ট এবং ফরেক্স ট্রেডিং এ বিনিয়োগের নামে ভূঁইফোড় ফ্রড কোম্পানি খুলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। মানুষকে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে দেশের কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে বিদেশে।
প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জহির উদ্দিন রাসেল’র বিরুদ্ধে ক্রাউন বে হোটেলের নামে এবং ফরেক্স ট্রেডিং এ বিনিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকা ও ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিরীহ জনগণকে সর্বশান্ত করার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের ফারুক মজুমদার অভিযোগ করে বলেন, বেশি লাভের আশায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রথমে ছোট অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। শুরুতে লাভ বা উত্তোলনের সুযোগ দেখিয়ে পরবর্তীতে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হয়। একপর্যায়ে বিনিয়োগ করা অর্থ উত্তোলন করতে না পেরে অনেকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভুক্তভোগী জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের বিনিয়োগে মানুষকে যুক্ত করতে একটি মার্কেটিং নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উচ্চ মুনাফার আশ্বাস দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন, ব্যবহৃত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। অর্থের লেনদেন দেশের বাইরে হয়েছে কী না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অনলাইন জুয়া ফরেক্স ট্রেডিং এ বিনিয়োগ।সম্পূর্ণ অবৈধ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও BSEC এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়নি। তাই ‘গ্যারান্টেড লাভ’ এর প্রলোভনে পা দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন বিনিয়োগের নামে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মানুষের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এটি দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ ব্যাংক, আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের প্রতি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, অতি দ্রুত ব্যবস্থা নিন। নতুবা নতুন বাংলাদেশে ৪ কোটি বেকার যুবকের আর্তনাদ আর আহাজারির হাহাকার ধ্বনিতে ভরে উঠবে। নতুন করে শত-সহস্র তরুণ-যুবককে নিঃস্ব করে দেবে এই ফরেক্স ট্রেডিং।
Previous ArticleO Jacaré 2026 4KUHD Clean Audio 4K .t𝐨rr𝐞nt
Related Posts
Add A Comment

