ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় এক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে (৮) ধর্ষণের অভিযোগে মো. ইব্রাহিম নামে এক মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে তাকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা একজন ভ্যানচালক এবং মা পোশাক কারখানার কর্মী। অভিযুক্ত ইব্রাহিম উপজেলার একটি স্থানীয় মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করতেন।
খাবার দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রামের নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় বিভিন্ন বাড়ি থেকে পর্যায়ক্রমে ওই মসজিদের ইমামের খাবার পাঠানো হতো। গত শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুটি ইমামের জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে মসজিদে যায়। এ সময় ইমাম ইব্রাহিম শিশুটিকে মসজিদের ভেতরেই ধর্ষণ করেন এবং ঘটনাটি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখান।
পরবর্তীতে গতকাল সোমবার (২২ জুন) শিশুটি তার স্বজনদের কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মসজিদে গিয়ে ইমামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করলে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ জানান, ঘটনার পর সোমবার রাতেই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ইমাম ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং আদালতে জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য পাঠানো হয়েছে।
৩ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় ঘটনা
উল্লেখ্য, এর মাত্র তিন দিন আগে গত ২০ জুন একই উপজেলার অন্য একটি জামে মসজিদে পবিত্র কোরআন শিখতে গিয়ে সাড়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যা ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার অভিযুক্ত ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকেও উত্তেজিত জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছিল। বর্তমানে তিনিও আদালতের নির্দেশে কারাগারে রয়েছেন। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে একই উপজেলায় এমন দুটি ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

