আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। তবে শক্তিশালী ডলার এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধিকে কিছুটা সীমিত রেখেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বাজার পরিস্থিতির পরিসংখ্যান
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্পট গোল্ড বা নগদ স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৬৫৫.৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। দিনের শুরুতে দাম প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেলেও পরবর্তী সময়ে ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে তা কিছুটা কমে আসে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বর্ণের ফিউচার বা আগাম সরবরাহ চুক্তির দাম ০.১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪,৬৮০.৫০ ডলারে নেমেছে।
দাম বাড়ার প্রধান কারণসমূহ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দামের এই অস্থিতিশীলতার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর কাজ করছে:
- ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনিশ্চিত সময়ে বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বর্ণকেই সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
- ডলারের প্রভাব: বিশ্ববাজারে ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, যা দামের লাগামহীন বৃদ্ধিকে কিছুটা টেনে ধরছে।
- জ্বালানি তেলের মূল্য: তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা বাড়ছে, যা স্বর্ণের বাজারে পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করছে।
ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণের বাজারের পরবর্তী গতিপথ সম্পূর্ণ নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর। যদি এই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে, তবে স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এখন নিবিড়ভাবে বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন, যা আগামী দিনগুলোতে মূল্যবান এই ধাতুর দাম নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।

