বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমাতে কাজ করছে সরকার। আগে একটি ব্যবসা শুরু করতে যেখানে প্রায় এক বছর সময় লাগত, সেখানে এখন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরুর সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আদর্শ পরিস্থিতিতে একটি কোম্পানি ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারবে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ শীর্ষক ডিব্রিফিং সেশনে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সিডিপি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধু অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না। বরং এটিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এলডিসি-পরবর্তী বাস্তবতায় বাংলাদেশকে প্রস্তুত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ এবং উৎপাদনভিত্তি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির কথা বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি কেবল অলংকারমূলক শব্দ নয়, বরং বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি। বাজেটে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থার জটিলতা কমানো এবং বাজার বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বর্তমান বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের গুরুত্ব বাড়ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার এখন পরিবেশগত সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, জলবায়ু সহনশীলতা ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে গড়ে উঠছে। এ বাস্তবতায় সামাজিক দায়বদ্ধতা ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই দেশগুলো টিকে থাকতে পারবে।
তিনি জানান, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট (আরবিসি) সেল’ গঠন করেছে। এটি সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি ও উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে কাজ করবে।
ফোরামের সুপারিশের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি নির্ভরযোগ্য সোর্সিং ও উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কোথায় সময় কমানো ও প্রক্রিয়াগত ওভারল্যাপ দূর করা সম্ভব, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নের বিষয়ে জনঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বিডার এক্সিকিউটিভ মেম্বার মো. হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি (দ্বিপাক্ষিক-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

