প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এ এলাকার মানুষ যদি বিদেশে যেতে না পারে, তবে তা মন্ত্রী হিসেবে তার জন্য বড় আক্ষেপের বিষয় হবে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে মৌলভীবাজারের জুড়ীতে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার ওপর জোর
জুড়ী এলাকায় একটি নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমি এখানে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এ ক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরও সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।” তিনি আরও জানান যে:
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিভিন্ন দেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের জন্য আরবি, জাপানের জন্য জাপানিজ এবং ইউরোপের জন্য ইংরেজি ভাষায় ন্যূনতম দক্ষতা অর্জন করা বাধ্যতামূলক।
ভাষায় পারদর্শী হলে প্রবাসীদের জন্য কর্মসংস্থানের বিশাল ক্ষেত্র তৈরি হবে।
কৃষি পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত স্থানীয় কৃষি পণ্য দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন:
জুড়ীর মিষ্টি কুমড়া, তরমুজ, লেবু ও কলা যেন পুরো সিলেট বিভাগের বাজারে ছড়িয়ে পড়ে।
এসব পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
রপ্তানি শুরু হলে বিশ্বদরবারে জুড়ী পরিচিতি পাবে এবং কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন।
“আপনারা উৎপাদন বাড়ান। এসব পণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে। তাতে কৃষকেরাও যথাযথ মূল্য পাবেন এবং সরকার এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।” — আরিফুল হক চৌধুরী, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

