দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে চিরবৈরী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবারের (১৬ এপ্রিল) মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য স্থান
সূত্রের খবর অনুযায়ী, দুই পক্ষই আলোচনা পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে বৈঠকের সুনির্দিষ্ট স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনার জন্য দুইটি স্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে:
- ইসলামাবাদ (পাকিস্তান): আগের আলোচনার অভিজ্ঞতায় আবারও পাকিস্তানের রাজধানীর কথা ভাবা হচ্ছে।
- জেনেভা (সুইজারল্যান্ড): একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে জেনেভার নামটিও আলোচনায় রয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, আগের দফার আলোচনার পর থেকেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরান নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। এক্ষেত্রে পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদানে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
পুরনো জটিলতা ও সমঝোতার আশা
এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত সংলাপটি চুক্তির মেয়াদ নিয়ে মতবিরোধের কারণে ভেস্তে গিয়েছিল। তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন ২০ বছরের কঠোর শর্তে অনড় থাকায় ইরানের প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়।
তবে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমার মনে করছেন, এবারের আলোচনা ইতিবাচক দিকে মোড় নিতে পারে। তার মতে, শেষ পর্যন্ত সাড়ে ১২ বছরের একটি মধ্যমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমান উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জ
আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা কমেনি। ইতোমধ্যে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অবরোধ শুরু করেছে, যা সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই দ্বিতীয় দফার বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা হ্রাসে তা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চুক্তির মেয়াদ ও অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে দুই পক্ষ কতটা ছাড় দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

