পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফলাফল গণনায় এক নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন (তৃণমূল কংগ্রেস) বড় পরাজয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে।
সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রধান বিরোধী দল (বিজেপি) এককভাবে ২০৫টি আসনে জয়লাভ করে ১৪৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অনেকটাই অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এখন পর্যন্ত ৮২টি আসনে জয় পেয়েছে।
নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ার পর এই প্রথম নির্বাচনে শাসকদলের এমন বিপর্যয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এবং বর্তমানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির প্রধান মুখ হিসেবে সামনে আসেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে হারানোর পর এবার তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রেও সরাসরি লড়াই করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
এছাড়া এই নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট এবং তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবির-এর নবগঠিত দল অংশ নেয়, যা বিভিন্ন আসনে ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যের ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। যদিও বুথফেরত সমীক্ষাগুলোতে স্পষ্ট কোনো চিত্র পাওয়া যায়নি, তবে গণনার শুরু থেকেই বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায়। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২১৫টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসে, যেখানে বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। এবারের ফলাফল সেই চিত্রকে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যদিও কিছু কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বামফ্রন্ট সরকারের পতনের ১৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ আবারও এক বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

