পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলতেই রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সোমবার (৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে এবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি জয়লাভ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, জনগণ বিজেপিকে একটি অভাবনীয় ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং দল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রশাসন গঠনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সবশেষ ফলাফল প্রবণতা অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮ আসনের অনেক ওপরে উঠে গিয়ে বিজেপি ২০৫ আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে শাসক দল (তৃণমূল কংগ্রেস) এখন পর্যন্ত ৮২টি আসনে জয় পেয়েছে বলে জানা গেছে।
এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে। বিজেপির প্রধান মুখ হিসেবে সামনে এসেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন এবং এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ভোটার তালিকা সংশোধন ( এসআইআর) প্রক্রিয়া, ভোটার সমীকরণের পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক জোটের পুনর্বিন্যাস এবারের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২১৫ আসন পেয়ে ক্ষমতায় এলেও এবারের ফলাফল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে, যা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

