চীন সফরে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেইজিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনটি মূল লক্ষ্য উপস্থাপন করেছেন বলে জানিয়েছে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকটি ইতিবাচক হয়েছে এবং চীন ইরানের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান সফরকালে বেইজিংকে যে তিনটি মূল লক্ষ্য জানানো হয়েছে, সেগুলো হলো—
প্রথমত, ইরান তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায় যে তারা যুদ্ধের পরিবর্তে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানের দিকে অগ্রসর হতে চায়। তেহরান এমন একটি চুক্তি চায় যা তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্য ও বিস্তৃত সমঝোতার পথ তৈরি করবে।
দ্বিতীয়ত, ইরান চীন–ইরান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের প্রেক্ষাপটে ইরান চায়, বেইজিং যেন এমন কোনো সমঝোতায় না যায় যা তেহরানের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে চীনের কাছ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে।
তৃতীয়ত, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো কীভাবে গঠিত হবে—এ নিয়ে আলোচনা হয়। দুই পক্ষই পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন শান্তি ও নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যেখানে চীন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে, যদিও চূড়ান্ত কোনো চুক্তি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

