আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে হবিগঞ্জে কোরবানির পশু প্রস্তুত ও বেচাকেনার কর্মযজ্ঞে জমে উঠেছে খামারগুলো। জেলার বিভিন্ন খামারে চলছে গরু-ছাগলের পরিচর্যা ও মোটাতাজাকরণের ব্যস্ততা।
মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া এলাকার পিওর অ্যান্ড অর্গানিক ডেইরি ফার্ম-এ এবার সবার নজর কাড়ছে ১১০০ কেজি ওজনের বিশাল গরু ‘পুষ্পা’, যার দাম হাঁকা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।
খামারের মালিক মুত্তাকিম চৌধুরী জানান, প্রায় তিন বছর ধরে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু পালন করা হচ্ছে। বর্তমানে খামারে প্রায় ৩০০টি গবাদিপশু রয়েছে, যার মধ্যে ঈদকে ঘিরে ৯০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “পুষ্পা” সম্পূর্ণ দেশীয় গরু এবং নিয়মিত যত্ন, খাবার ও স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে লালনপালন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব এলেও ১০ লাখ টাকা দাম আশা করা হচ্ছে।
খামার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ঘাস, খড়, ভুট্টা, ভুসি ও দানাদার খাদ্য দিয়ে পশুগুলোকে পরিচর্যা করা হচ্ছে। প্রায় ২৫ জন শ্রমিক পালাক্রমে খামারের কাজে নিয়োজিত আছেন।
খামারের শ্রমিকরা জানান, দেশীয় খামার লাভজনক হলেও ঈদের সময় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গরু প্রবেশ করলে স্থানীয় খামারিরা ন্যায্য দাম পান না। তারা এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির দাবি জানান।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর হবিগঞ্জে মোট ১,৪৪০টি খামারে প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে জেলায় কোরবানির চাহিদা প্রায় ৪৬ হাজার। ফলে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু রয়েছে।
ডা. নুরুল ইসলাম জানান, ‘পুষ্পা’ বর্তমানে জেলার সবচেয়ে বড় গরু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং খামারগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঈদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় খামারিদের এই উদ্যোগে উৎসাহ দেখা গেলেও অবৈধ পশু প্রবেশ বন্ধ করা গেলে তারা আরও লাভবান হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

